২০২৬ বিশ্বকাপে নবাগত দেশ কেপ ভার্দের জার্সিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে পা রেখেই ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়েছেন ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। বিশ্বকাপ শুরুর আগে যাঁর নাম খুব কম ফুটবলপ্রেমীই জানতেন, স্পেনের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিনি এখন কোটি মানুষের অনুপ্রেরণার নাম। ভক্তরা স্নেহভরে তাঁকে ডাকছেন ‘লিটল গ্র্যান্ডমা’ নামে।
ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার জোসিমারের নামানুসারে তাঁর আসল নাম রাখা হয়েছিল জোসিমার। তবে ফুটবল বিশ্ব তাঁকে চেনে ভোজিনহা হিসেবেই। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে স্পেনের আক্রমণভাগকে একাই রুখে দিয়ে কেপ ভার্দেকে এনে দেন স্মরণীয় গোলশূন্য ড্র।
এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ হাজার। স্পেন ম্যাচের পর তা বেড়ে ১ কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।
তবে খ্যাতির এই উজ্জ্বল আলো ভোজিনহার জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সাবেক সতীর্থ টনি সিলভা জানান, দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা ভোজিনহা এখনও অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন। সাধারণ পোশাক পরে এলাকার শিশুদের সঙ্গে ধুলোমাখা মাঠে ফুটবল খেলেন এবং কখনো নিজের সাফল্য নিয়ে অহংকার করেন না।
২০১১ সালে তাঁর সঙ্গে ক্লাব পর্যায়ে শিরোপা জেতা সাবেক রাইট-ব্যাক নুনো পিরেস বলেন, বড় ম্যাচের চাপেও ভোজিনহা সবসময় শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী থাকেন। স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল সত্যিই অবিশ্বাস্য।
ভোজিনহার পরিবারের সঙ্গেও ফুটবলের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর ছোট ভাই ডেলমিরো নাসিমেন্তো সাইপ্রাসের দ্বিতীয় বিভাগের একটি ক্লাবে পেশাদার ডিফেন্ডার হিসেবে খেলছেন। ভাইয়ের বিশ্বকাপের সাফল্যে আবেগাপ্লুত হলেও মজার ছলে তিনি বলেন, ভোজিনহা খুব দাবি-প্রবণ এবং সবসময় সবার ভুল শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাঁর হৃদয় অত্যন্ত বড় এবং তিনি কখনো নিজের শিকড় ভুলে যান না।
কেপ ভার্দের জাতীয় সংগীতের সময় বড় ভাইকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ডেলমিরো বলেন, সেই মুহূর্ত তাঁদের পরিবারের দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের স্বীকৃতি হয়ে এসেছে। তাঁর বিশ্বাস, বিপুল জনপ্রিয়তা ও খ্যাতি পাওয়ার পরও ভোজিনহা আগের মতোই মাটির মানুষ হয়ে থাকবেন।
বিশ্বকাপের আগেই নিজ দেশে তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ। ২০১৬ সালে কেপ ভার্দের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘রেভিস্টা সেম্প্রে ভিভা’র প্রচ্ছদ মডেল হয়েছিলেন তিনি। সেই স্মৃতি এখনও যত্ন করে সংরক্ষণ করে রেখেছেন তাঁর মা আনা কান্দিদা এভোরো।
স্পেনকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপে রূপকথার সূচনা করা কেপ ভার্দের ‘ব্লু শার্কস’দের সামনে এখন আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে আবারও গোলপোস্টের নিচে ভোজিনহা একই দৃঢ়তা দেখাতে পারেন কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা।

