লেখক, কবি ও সাংবাদিক ফরিদা আখতার খানের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৮ সালের এই দিনে মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন।
মানিকগঞ্জের চারিগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও সাংস্কৃতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা আখতার খান। তাঁর বাবা ছিলেন বিশিষ্ট আলেম মওলানা গোলাম রাজ্জাক খান এবং চাচা ছিলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক খান মোহাম্মদ মইনুদ্দিন। তাঁর বড় ভাই সিদ্দিকুর রহমান খান অলি (সিদ্দিক মাস্টার) ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নবাবগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক। ১৯৭২ সালের ১২ নভেম্বর কর্মস্থলে আততায়ীর গুলিতে তিনি নিহত হন।
বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ফরিদা আখতার খানের সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি হয় সাপ্তাহিক ‘বেগম’ পত্রিকার মাধ্যমে। কর্মজীবনে তিনি দৈনিক নব অভিযান, রূপালী, লাল সবুজ, মুক্তকণ্ঠের ফিচার বিভাগে কাজ করেন। এছাড়া সাপ্তাহিক বিচিত্রা, পূর্বাণী, পাক্ষিক যোগাযোগ বার্তাসহ বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। তিনি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, অনুপ্রাস, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র, ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বার্তা সংস্থা ইউএনবির সিনিয়র সাব-এডিটর এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের সংবাদ বিভাগেও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সর্বশেষ কর্মস্থল ছিল দৈনিক ডেসটিনি।
সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতায় ব্যস্ত থাকলেও পরিবারের প্রতি ছিল তাঁর অসামান্য দায়িত্ববোধ। স্বাধীনতার পর আততায়ীর হাতে বড় ভাই নিহত হওয়ার মাত্র দুই মাস আগে তাঁর বাবাও মৃত্যুবরণ করেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারানোর পর মা ও ছোট দুই ভাই-বোনের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি। সংসারের দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি আজীবন বিয়ে করেননি।
মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তাঁর ছোট বোন দিলরুবা খান এবং ছোট ভাই শাহেদুর রহমান খান ইমরোজ।

