বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ম্যাচ শেষে মাঠে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
স্থানীয় সময় রোববার (১৯ জুলাই) নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে স্পেন। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা একপর্যায়ে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কিতে রূপ নেয়। এতে উভয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফও জড়িয়ে পড়েন।
বিবিসি ও ইয়াহু স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরতে দেখা যায়। এছাড়া স্পেনের রদ্রিকে ঘুষি মারার অভিযোগ উঠেছে নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে। সংঘর্ষের সময় স্পেনের বদলি খেলোয়াড় গাভিকে মাটিতে ফেলে দেন থিয়াগো আলমাদা এবং পরে পারেদেসও তাকে ধাক্কা দেন। আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধেও স্পেনের খেলোয়াড়দের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর পারেদেস লাল কার্ড দেখেন। এর আগে দ্বিতীয়ার্ধে কঠোর ট্যাকলের কারণে তিনি একটি হলুদ কার্ডও পেয়েছিলেন।
ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ম্যাচ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর এবং ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে একজন ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড এথিকস প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ম্যাচ-পরবর্তী সংঘর্ষ এবং সম্ভাব্য শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তদন্ত করবেন।
ফিফার শৃঙ্খলা বিধির ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের আচরণকে ‘ফেয়ার প্লের নীতি লঙ্ঘন’ কিংবা ‘ফিফার সুনাম ক্ষুণ্নকারী আচরণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে খেলোয়াড়দের ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক জরিমানা কিংবা বিশ্বব্যাপী কার্যকর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হতে পারে।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, জয়ে যেমন উদার হতে হয়, পরাজয়েও তা মেনে নিতে হয়। দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেশের জন্য গর্বের বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণের সমালোচনা করে বলেন, পুরো ঘটনায় কেবল লিওনেল মেসিই মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করেছেন। তিনি স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং শান্তভাবেই মাঠ ত্যাগ করেন। সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারারও পারেদেসের আচরণকে ‘ফুটবলে অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।
বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অতীতে লুইস সুয়ারেজ, লুইস রুবিয়ালেস ও এমিলিয়ানো মার্তিনেজের মতো ঘটনার নজির বিবেচনায় ফিফা এবারও কঠোর অবস্থান নিতে পারে। তবে পারেদেস, মোলিনা, আয়ালা কিংবা আলমাদার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খেলোয়াড়দের আচরণগত নানা ঘটনায় একাধিকবার সমালোচনা ও শাস্তির মুখে পড়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। এবারের তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং এএফএর বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো জানায়নি ফিফা।

