২০২৬ বিশ্বকাপের হতাশা পেছনে ফেলে নতুন লক্ষ্য নিয়ে এগোতে শুরু করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হওয়ায় সেলেসাওদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ২০৩০ বিশ্বকাপ। এরই মধ্যে ব্রাজিলের জন্য আশাব্যঞ্জক একটি সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। ফিফা যদি ২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪টি দল নিয়ে আসর আয়োজনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তাহলে দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ দেশই সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেতে পারে। ফলে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলকে হয়তো প্রচলিত বাছাইপর্ব খেলতে নাও হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি ব্রাজিল। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকেই বিদায় নেয় সেলেসাওরা। ফলে নেইমার, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ম্যাথিয়াস কুনহাসহ দলের ফুটবলারদের শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যায় এবং ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়।
বিশ্বকাপ শেষে ২০৩০ আসরকে ঘিরে প্রস্তুতি শুরু করেছে ফিফা। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে ব্যতিক্রমী আয়োজনে মূল স্বাগতিক থাকবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। পাশাপাশি শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই ছয় দেশই স্বাগতিক হিসেবে সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নেবে।
দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো ডোমিঙ্গেজ জানিয়েছেন, ২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪টি দল অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কনমেবল অতিরিক্ত কোটা পাবে। ইতোমধ্যে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকায় ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর, পেরু ও বলিভিয়ার মতো দেশগুলোর জন্যও বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে।
তবে দলসংখ্যা বাড়লে দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রতিযোগিতামূলক গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে উয়েফা নেশনস লিগের আদলে নতুন একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট চালুর পরিকল্পনা করছে কনমেবল। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কোপা আমেরিকার মধ্যবর্তী সময়েও দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো নিয়মিত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।
প্যারাগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রবার্ট হ্যারিসন জানান, স্বাগতিক তিন দেশের বাইরে বাছাইপর্বের টিকিট নিয়ে লড়াই চলবে। পাশাপাশি উয়েফার সহযোগিতায় নতুন একটি প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা চলছে, যেখানে দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো ইউরোপের শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত খেলতে পারবে।
এরই মধ্যে নতুন প্রস্তুতিও শুরু করেছে ব্রাজিল। আগামী সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রদ্রিগোরা। ২৫ সেপ্টেম্বর টাউনসভিলে এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে তারা।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ টনি পপোভিচ ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বের অন্যতম সফল ফুটবল শক্তির বিপক্ষে নিজেদের মাঠে খেলার সুযোগ তাদের জন্য মূল্যবান অভিজ্ঞতা হবে এবং ভবিষ্যতের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরিসংখ্যানেও এগিয়ে ব্রাজিল। ১৯৮৮ সালে প্রথম সাক্ষাতের পর দুই দলের মধ্যে ১১টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাজিল জিতেছে আটটিতে, অস্ট্রেলিয়া একটিতে এবং দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪ দলের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ব্রাজিলের অংশগ্রহণের পথ আরও সহজ হতে পারে। তবে হারানো শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যেই আগামী চার বছরের প্রস্তুতিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখছে সেলেসাওরা।

