ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবার শুধু রাজনীতিতেই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নতুন ইতিহাস গড়েছেন। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিডের ইনস্টাগ্রাম রিলের ভিউয়ের রেকর্ড ভেঙে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তিনি।
৭৫ বছর বয়সী মোদি তরুণদের উদ্দেশে ইনস্টাগ্রামে পরপর দুটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন। এর মধ্যে প্রথম ভিডিওটি প্রকাশের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৩০ কোটির বেশি (৩০০ মিলিয়ন) ভিউ অর্জন করে। ফলে ইনস্টাগ্রামে একক রিল ভিডিওর সর্বোচ্চ ভিউয়ের আগের রেকর্ড ভেঙে যায়।
এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিডের দখলে। চলতি মাসের শুরুতে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি রিল প্রকাশ করে তিনি সর্বোচ্চ ভিউয়ের রেকর্ড গড়েছিলেন।
মোদির এই ভিডিও দুটি প্রকাশিত হয় ভারতের সাম্প্রতিক শিক্ষার্থী আন্দোলনের উত্তাল সময়ের মধ্যে। নিট (NEET) মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি জেন-জি প্রজন্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্মকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন। জানা যায়, বৃহস্পতি ও শুক্রবার গভীর রাতে ভিডিও দুটি ধারণ করা হয়েছিল।
নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের পর পরীক্ষা বাতিল হলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও জোরদার হয়। ছাত্রনেতা অভিজিৎ দিপ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করেন, যা অল্প সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় দুই কোটি অনুসারী অর্জন করে। পরবর্তীতে সিজেপি ও বিরোধী দলগুলোর টানা আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
১০ কোটিরও বেশি ইনস্টাগ্রাম অনুসারী থাকা সত্ত্বেও মোদির এমন সেলফি-ধাঁচের রিল প্রকাশের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তিনি সাধারণত আনুষ্ঠানিক ভাষণ ও নির্ধারিত কর্মসূচিকেন্দ্রিক জনসংযোগে অভ্যস্ত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিলঞ্জন মুখোপাধ্যায় ব্লুমবার্গকে বলেন, শিক্ষার্থী আন্দোলনের চাপ প্রধানমন্ত্রীকে নতুন ধরনের রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশল গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। তবে ক্ষমতাসীন বিজেপির দাবি, তরুণদের সঙ্গে আরও সহজ ও স্বাভাবিকভাবে সংযোগ স্থাপন করতেই ভিডিওগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্য যাই থাকুক না কেন, আইশোস্পিডের রেকর্ড ভেঙে মোদির এই অর্জন আবারও প্রমাণ করেছে যে, ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন কেবল বিনোদনের প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

