ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পূর্ব শত্রুতার জেরে কুপিয়ে ডান হাত ও ডান পা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার প্রায় তিন মাস পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি সুজন মুন্সি (৩০)। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তিনি হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভরশীল। এদিকে ঘটনার প্রধান আসামি এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার। মামলার দুই আসামির রিমান্ড শুনানিতে বক্তব্য দিতে সোমবার (২৭ জুলাই) হুইলচেয়ারে করে ফরিদপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ হাজির হন সুজন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় রাজমিস্ত্রীর কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের ফাজেলখার ডাঙ্গী এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন সুজন মুন্সি। চাপাতি ও রামদার আঘাতে তার ডান হাত ও ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে বড় ভাই হায়দার মুন্সিকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন সুজনের মা নিরু বেগম চারজনকে আসামি করে চরভদ্রাসন থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন কালাম মণ্ডল (৪০), সাত্তার মণ্ডল (৩৫), শাহ বরাত মণ্ডল (২৪) এবং শামীম মণ্ডল (৩০)। এর মধ্যে প্রধান আসামি কালাম মণ্ডল এখনও পলাতক। গত বৃহস্পতিবার সাত্তার মণ্ডল ও শাহ বরাত মণ্ডল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সোমবারের শুনানিতে সাদা ব্যান্ডেজে মোড়ানো বিচ্ছিন্ন হাত-পা নিয়ে হুইলচেয়ারে আদালতে উপস্থিত হন সুজন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মা নিরু বেগম, স্ত্রী বেবী বেগম ও ভাই হায়দার মুন্সি। শুনানিকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুই আসামির তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী হাবিবুর রহমান জানান, তদন্তের স্বার্থে এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আদালত দুই আসামির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
আদালত প্রাঙ্গণে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুজনের স্ত্রী বেবী বেগম বলেন, চার সন্তানের জনক তার স্বামী এখন সম্পূর্ণ অসহায়। তিনি একা চলাফেরা করতে পারেন না, এমনকি খেতেও অন্যের সহায়তা লাগে। যারা তার স্বামীকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে দিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।
মা নিরু বেগম বলেন, কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তার ছেলেকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে এক হাত ও এক পা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার এতদিন পরও প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় তিনি দ্রুত বিচার ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
চরভদ্রাসন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, প্রায় ১০ দিন আগে তিনি মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেছেন। এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত দুইজনসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামিসহ পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

