ফরিদপুরে কাঁচামাল ব্যবসায়ী ফয়সাল হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ বদি উজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার আইয়ুব সর্দারের দুই ছেলে চান সর্দার ও তারা সর্দার এবং বাবুল আকন্দ। রায় ঘোষণার সময় বাবুল আকন্দ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর দুই আসামি চান সর্দার ও তারা সর্দার পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবনের পাশে কাঁচামাল ব্যবসায়ী ফয়সালকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। পরদিন নিহতের স্বজন ফিরোজা বেগম কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় চান সর্দার, তারা সর্দার ও শাহিন শেখের নাম উল্লেখসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। পরবর্তীতে মামলার এক আসামি শাহিন শেখ মারা যান।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ও অভিন্ন উদ্দেশ্যে শাহিন শেখ ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফয়সালের পিঠের বাম পাশে আঘাত করেন। এ সময় অন্য আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে স্থানীয় শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
আদালত বলেন, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তারা দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। তাই আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
মামলার বিচার চলাকালে চান সর্দার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তারা সর্দার ও বাবুল আকন্দের বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

