ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম সদস্য সচিব বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শের বিরুদ্ধে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, সংগঠনের পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার, অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ প্রকাশ্যে এলেও এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ জানুয়ারি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ছাত্রসংগঠনের প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানের চেয়ার, ক্যাবল ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরির ঘটনায় বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পরে ২৯ মার্চ জিয়া হলের তৎকালীন ডাইনিং ম্যানেজারের কাছ থেকে কৌশলে চেক নেওয়ার চেষ্টাসহ অসদাচরণের অভিযোগও সামনে আসে। সে সময় প্রকাশিত একটি অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, তিনি ম্যানেজারকে দায়িত্ব পেতে সহযোগিতা করেছিলেন, কিন্তু পরে সেই সহযোগিতার মূল্যায়ন করা হয়নি।
এর ধারাবাহিকতায় ১২ মে নিজের এক সহপাঠীর রিটেক পরীক্ষার ফি জমা না দিয়ে তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া একটি চ্যাটে তাকে ‘প্রোটেকশন নিয়ে আসতে হবে’, ‘আমার কথায় ইবিতে অনেক কিছু হয়’ এবং ‘ভিসিকে কল দিয়ে শুনো আমি কে’—এ ধরনের মন্তব্য করতে দেখা যায়। পরে বিষয়টি আলোচনায় এলে তিনি দ্রুত রিটেক পরীক্ষার ফি পরিশোধ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এরপর ১৯ জুন ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস ইউনিটি’র নবগঠিত কমিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তার একটি ফোনালাপের অডিও ফাঁস হয়। ওই অডিওতে এক শিক্ষার্থীকে হুমকি দেওয়া, অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং দেখে নেওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়ার অভিযোগ উঠে।
সর্বশেষ ২৯ জুন জিয়া মোড় এলাকার চা বিক্রেতা ববিতা খাতুনের একটি কান্নাজড়িত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তিনি বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শের বিরুদ্ধে ৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনেন। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরে অভিযুক্ত ওই টাকা ফেরত দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আদর্শের সঙ্গে এমন কর্মকাণ্ড সাংঘর্ষিক। একজন ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও আন্দোলনের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অপকর্মের পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান উপাচার্যের কাছে সুপারিশ করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে পূর্বের অভিযোগগুলোও উপাচার্যকে জানানো হয়েছে। শনিবার তার পরিবারকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে বলা হয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

