দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতার ফল হিসেবেই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার ভাষ্য, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জুলাইয়ের প্রতিরোধ ও আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করে এসেছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় দেশে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট। তার মতে, ৩৬ দিনের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের অবসান হয়। আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও তরুণদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ৫ আগস্টের ঘটনাকে স্মরণ করে আগামী ৪ আগস্ট রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছে দলটি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
হবিগঞ্জের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, দেশে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। তিনি সব রাজনৈতিক দলের প্রতি গণতান্ত্রিক পরিবেশে শালীন ভাষায় মত প্রকাশের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে উসকানিমূলক বক্তব্য ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

