নেপালে হিমবাহ ও পাথরের ধসের পর সৃষ্ট ঢলের দশম দিনে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত।
তিনি বলেন, আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে ওই চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাকে সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে বের করে আনেন। এর আগে শুক্রবার সকালে ত্রিশূলী-৩-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে নেপালের দুই নাগরিক সঞ্জয় শাহ ও কবির মহারাজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাঁদের উদ্ধারের পর কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। তাঁদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কবির মহারাজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে কাঠমান্ডুর আর্মি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সঞ্জয় শাহকেও একই হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর কথা রয়েছে। গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তের একটি পাহাড়ে বড় ধরনের হিমবাহ ও পাথরের ধসের পর কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত ওই এলাকায় নেমে আসে। এতে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বহু কর্মী নিখোঁজ হন। শুক্রবার ও শনিবার পর্যন্ত মোট তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৪৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৫ হাজার ৮৩ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত অংশে ৩১ জন নিহত ও ৫৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুই দেশের তথ্য মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩৭৫ এবং নিখোঁজের সংখ্যা সাড়ে ৫ হাজারের বেশি।

