নিজ জেলার মানুষের ভালোবাসা, উচ্ছ্বাস আর ফুলেল শুভেচ্ছায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় বড় মাঠে আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনায় দাঁড়িয়ে তিনি কবির ভাষায় বললেন, ‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।’
রোববার বিকেলে রাষ্ট্রপতির সম্মানে এ গণসংবর্ধনার আয়োজন করে ঠাকুরগাঁও নাগরিক সংবর্ধনা কমিটি। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে অনুষ্ঠানস্থলে। রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখতে বৃষ্টির মধ্যেও মাঠে ছিল উপচেপড়া ভিড়।
গণসংবর্ধনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজ জেলার মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে যা দিয়েছেন, তার ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারব না।’
তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করতে চাই, আল্লাহ যেন আমাকে তৌফিক দান করেন—আমি যেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে পারি।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁও সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী যেসব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ ও ঠাকুরগাঁও নার্সিং কলেজের কাজ শুরু হয়েছে। ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু করা হবে এবং কৃষকদের জন্য ইপিজেড চালুর কাজও দ্রুত এগিয়ে যাবে। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে রাষ্ট্রপতির আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ঠাকুরগাঁও শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আলোকসজ্জা, বর্ণিল তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়। জেলার পাঁচ উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ এসে যোগ দেন রাষ্ট্রপতির গণসংবর্ধনায়।
ঠাকুরগাঁও নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবির বলেন, ‘আমাদের ঘরের সন্তান দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়েছেন—এটি ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সবাই এই মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন।’
এর আগে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বেলা ১টার দিকে তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টার ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে তিনি সরাসরি সার্কিট হাউসে যান এবং সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন।
এরপর শহরের সেনুয়া এলাকায় বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁকে ঘিরে জেলার মানুষের মধ্যে তৈরি হয় উৎসাহ-উদ্দীপনা ও গর্বের আবহ।
দুই দিনের সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার রাষ্ট্রপতির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। এদিন শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে জামালপুর এলাকায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানস্থলসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর যাতায়াতের পথেও রয়েছে কঠোর নিরাপত্তাবলয়।
নিজ জেলার সন্তানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাছে পেয়ে ঠাকুরগাঁওবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে এক অন্যরকম আনন্দ, গর্ব ও আবেগের আবহ।

