ময়মনসিংহের ত্রিশালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে উপজেলার বৈলর ও আশপাশের এলাকায় দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে ভোরে উপজেলার বৈলর এলাকায়। নিহত শহিদুল ইসলাম (৩৮) পেশায় দিনমজুর। তিনি পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে বৈলর দারুত তাকওয়া হিফজ মাদ্রাসার কাছে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন তিনি।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, রাস্তা পার হওয়ার সময় পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাতনামা অ্যাম্বুলেন্স শহিদুল ইসলামকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে। নিহত মার্জিয়া খাতুন (২২) ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের চরকুমারিয়া গ্রামের তামিম মিয়ার স্ত্রী।
জানা গেছে, যাত্রাপথে একটি ভ্যানগাড়ির পেছন থেকে অসাবধানতাবশত সড়কে পড়ে যান মার্জিয়া। এ সময় পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাতনামা বাস তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সবুজ পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত মার্জিয়া খাতুনের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় আবেদন সাপেক্ষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে নিহত শহিদুলের মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং ঘাতক যানবাহনগুলো শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।’
এদিকে, ত্রিশালে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দূরপাল্লার যানবাহনের বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক এবং ধীরগতির যানবাহনের অবাধ চলাচল দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
সচেতন মহলের দাবি, দুর্ঘটনা কমাতে মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের কার্যকর নজরদারি বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ও স্পিড ব্রেকার স্থাপন এবং বেপরোয়া যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

