এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে টকশোতে ‘নোংরা ভাষা’ ব্যবহার করা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। একই সঙ্গে নিজের ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে ভবিষ্যতে ভাষা ব্যবহারে আরও সতর্ক থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বুধবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান রাশেদ খান।
পোস্টে তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অতীতে জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী ও কন্যা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদসহ বিএনপির মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে তীর্যক ও অশ্রাব্য ভাষায় মন্তব্য করেছেন। এর প্রেক্ষিতে কয়েক মাস আগে তিনি টকশোতে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে একটি উদাহরণের মাধ্যমে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন।
রাশেদ খান লিখেছেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগতভাবেও তিক্ততা তৈরি হয়েছিল। তার দাবি, পাটওয়ারী তাকে নিয়েও অশ্রাব্য ভাষায় বিভিন্ন কথা বলেছিলেন। একপর্যায়ে একে অপরের বিরুদ্ধে কথা না বলার বিষয়ে পাটওয়ারী তাকে ফোনও করেছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
নিজের বক্তব্যের প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো নোংরা ভাষার জবাব নোংরা ভাষায় দেওয়া আমার ঠিক হয়নি—এমনটা মনে করেন দেশ-বিদেশে অবস্থানরত আমার অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী।’
তিনি আরও বলেন, তার ওই প্রতিক্রিয়ার উদ্দেশ্য ছিল ‘টিট ফর ট্যাট’-এর মতো জবাব দেওয়া। তবে ২০২৪-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ গঠন, মানবিক মর্যাদা ও বৃহত্তর কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
রাশেদ খান বলেন, ‘আমার জায়গা থেকে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাষাগত ভুল হয়েছে, তা আমি প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে নিজেকে শুধরে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি বা আমাদের সবারই উচিত গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি সহনশীল ও পরিশীলিত রাজনীতির সুযোগ সৃষ্টি করা।’
নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খান বলেন, ২০১৮ সাল থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক অভিযাত্রায় তিনি সবসময় সহনশীলতা এবং ভাষা ব্যবহারে সতর্ক থাকার চেষ্টা করেছেন। ভবিষ্যতেও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ঘৃণা ছড়িয়ে আমরা কেউই লাভবান হতে পারব না। তাতে কেবল বিরাজনীতিকরণের উদ্দেশে বসে থাকা গোষ্ঠী উপকৃত হবে।’

