গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটকে জাতীয় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে এ সমস্যা সমাধানে সরকার ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা না করে লংমার্চের নামে ‘লংড্রাইভ’ করছে।
রোববার সকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার তেতুলতলা মায়াধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাশেদ খান।
রাশেদ খান বলেন, ‘গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট এখন জাতীয় সংকট। এই সংকট সমাধানে সরকার ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করা দরকার। কিন্তু জামায়াত এই সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা না করে লংমার্চের নামে লংড্রাইভ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই জামায়াত ৯৬-এর বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করেছিল। জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে জামায়াত এখন আওয়ামী লীগকে বিক্ষোভ করার সাহস যোগাচ্ছে।’ এ সময় জামায়াতের আমিরের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা লংমার্চের নামে লংড্রাইভ বন্ধ করুন।’
আওয়ামী লীগের মিছিল প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী লীগ আর ফিরবে না। শেখ হাসিনা মারা গেলেও তাঁর লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার মতো শেখ পরিবারের কেউ নেই। আওয়ামী লীগের নেতারাও দেশে ফিরতে পারবেন না। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ এখন ‘পচে-গলে ধ্বংস হয়ে গেছে’ এবং দেশের জনগণ তাদের আর গ্রহণ করবে না।
জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বক্তৃতায় নিজেকে ‘অনেক বড় হ্যাডমওয়ালা’ বলে দাবি করেছেন এবং তাঁর হ্যাডম শেখ হাসিনা জানতেন বলেও উল্লেখ করেছেন।
রাশেদ খান বলেন, ‘আমার ইচ্ছে, আমি শেখ হাসিনাকে যদি পেতাম, তাহলে শফিকুল ইসলাম মাসুদের হ্যাডম বা শক্তি কতটুকু, তা জানতে চাইতাম।’
জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘গুপ্ত বট বাহিনী’ দিয়ে শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ জামায়াতের নেতারা বিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের চরিত্রহনন করছেন। তাঁর অভিযোগ, তারা সেনাবাহিনীসহ কোনো বাহিনীকে মানে না; তাদের কাছে ‘বট বাহিনীই সবকিছু’।
সার সংকট ও কৃষকদের ভোগান্তির বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, দেশে কোনো সার সংকট নেই। ডিলাররা কৃত্রিমভাবে সার মজুত করে সংকট দেখানোর চেষ্টা করছেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ১৭ বছরে কারা সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, তা সবাই জানেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকার এসব ‘ফ্যাসিস্ট সুবিধাভোগী’ সার ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি সার ব্যবসার পুরো ব্যবস্থাপনা নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সময় কৃষকদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে সকাল ১০টায় তেতুলতলা মায়াধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন রাশেদ খান।
সভায় জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দীনসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

