রাঙামাটির অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র ঝুলন্ত সেতু ফের পানিতে তলিয়ে গেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সেতুটির পাটাতনের ওপর প্রায় ৫ ইঞ্চি পানি উঠে যায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকি এড়াতে সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচলে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।
তবে নিষেধাজ্ঞা জারির পরও শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় ঝুলন্ত সেতু এলাকায় পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক রাঙামাটিতে বেড়াতে আসায় মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের সেতুতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ঝুলন্ত সেতুর টিকিট কাউন্টার ম্যানেজার হাসান আহমেদ সোহেল বলেন, এর আগে সেতুটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর মেরামত করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে সেতুটিতে কোনো ঝুঁকি নেই। সরকারি ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক রাঙামাটিতে আসায় তাদের কথা বিবেচনা করে সেতুতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত দুই-তিন দিনে এত বেশি পর্যটক এসেছেন যে, অনেকেই নিষেধাজ্ঞা মানতে চাইছেন না। তারা ঝুলন্ত সেতু উপভোগ করতে অনড়।
এর আগে গত ২৯ আগস্ট টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বেড়ে গেলে ঝুলন্ত সেতুটি প্রায় ২ থেকে ৩ ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। ওই দিন দুপুর থেকেই পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে পর্যটন কর্তৃপক্ষ।
পরবর্তী সময়ে হ্রদের পানি কমে গেলে ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে সেতুটির অধিকাংশ অংশ পানির ওপর ভেসে ওঠে। এর পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে পর্যটকদের চলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে হ্রদের পানি আবারও বেড়ে যাওয়ায় সেতুটির পাটাতন পানিতে তলিয়ে যায়।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত শুক্রবার সকালে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট এমএসএলে পৌঁছালে স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ছয় ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়। এতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন হচ্ছে।
বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পেলে প্রতিবছরই ঝুলন্ত সেতুর পাটাতন পানিতে তলিয়ে যায়। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা সেতুতে ওঠার সুযোগ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন। পাশাপাশি পর্যটন করপোরেশনও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা কয়েকজন পর্যটক বলেন, বুকভরা আশা নিয়ে ঝুলন্ত সেতু দেখতে এসে এবার তাঁদের ‘ডুবন্ত সেতু’ দেখতে হয়েছে। সেতুর ওপর প্রায় ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি পানি দেখেছেন তারা। তাঁদের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা এড়াতে সেতুটি অন্তত ২ থেকে ৩ ফুট উঁচু করা প্রয়োজন।
সচেতন মহলের মতে, রাঙামাটির পর্যটনশিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে ঝুলন্ত সেতুসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন সমন্বিত উদ্যোগ নিলে ঝুলন্ত সেতুর এই সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের পাশাপাশি রাঙামাটির পর্যটনশিল্প আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব।

