ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভেলাই গ্রামে ইঁদুর মারার বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে নীলফামারীর ডোমার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মচারী সুমন চন্দ্র (৪০) এর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৪ অক্টোবর) ভোর রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত সুমন চন্দ্র রাণীশংকৈল উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের ভেলাই গ্রামের মহেশ চন্দ্রের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমনের পরিবারে কোনো দৃশ্যমান পারিবারিক কলহ বা দ্বন্দ্ব ছিল না। সংসারে আর্থিক সচ্ছলতা ছিল, বাড়ি-গাড়ি সহ যথেষ্ট সম্পদও ছিল তাদের। তবে সম্প্রতি তিনি অনলাইন জুয়ায় মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের ধারণা, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে অনলাইন জুয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে তিনি বিপুল অঙ্কের দেনার দায়ে জড়িয়ে পড়েন। সেই মানসিক হতাশা থেকেই তিনি বিষপানের মতো চরম সিদ্ধান্ত নেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, সুমন ডোমার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে কর্মরত ছিলেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে নিজ বাড়িতে আসেন তিনি। ওই দিন সন্ধ্যায় পরিবারের সবার অগোচরে বাড়ির পাশের শ্মশান ঘাটের কাছে গিয়ে ইঁদুর মারার বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। বিষক্রিয়া শুরু হলে সুমন নিজেই মোবাইল ফোনে তার মাকে বিষপানের বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে স্বজনেরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরবর্তীতে দিনাজপুর নেওয়ার পথেই রাত আনুমানিক ১টার দিকে তিনি মারা যান।
এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ ও ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

