জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কারণেই জামায়াতে ইসলামী ৭০টি আসন পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারে বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ মিনারে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, জামায়াতে ইসলাম কবে ৭০টা আসন পাইছিল, আমারে বলেন। মানে তার ইতিহাসে সে কোনোদিন ৭০টা আসন পাইছে? জুলাইয়ের বদৌলতে ৭০টা আসন পাইছে, সেই জুলাইয়ের সনদ বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা, বিচারের জন্য বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত জোরদার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হইছে, আমরা জানতে চাই।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জাবের। তিনি বলেন, ‘এনসিপির জন্ম হইছে জুলাইয়ের মধ্যে দিয়ে। জুলাই না আসলে বাংলাদেশে এনসিপি নামক কোনো দল হতো? এই যে, ছয়জন এমপি হইছে। এরা কি আসমান দিয়ে হইছে, নাকি জুলাইয়ের কারণে হইছে? তাইলে জুলাইয়ের কারণে যারা এমপি হইছে, জুলাইয়ের কারণে যারা আজকে জনগণের কাছে ভালোবাসার মানুষ, তারা এখন পর্যন্ত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে, এবং হচ্ছে জুলাই গণহত্যার বিচারের জন্য কি কি করছে, আমরা এটা একটু জানতে চাই।’
সংসদে বক্তব্য দেওয়ার বাইরে এনসিপির পক্ষ থেকে আরও কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি। জাবের বলেন, ‘সংসদে বসে দু-একটি বক্তৃতার বাইরে আর কী কী জোরালো পদক্ষেপ তাঁরা গ্রহণ করেছেন, সেটা আমাদের বলতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এনসিপি না, জামায়াত না, বিএনপি না। কিন্তু বাংলাদেশের প্রশ্নে কারও বিরোধিতা করতে হলে, সে এনসিপি হোক, বিএনপি হোক কিংবা জামায়াত হোক, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। আবার বাংলাদেশের জন্য কারও পক্ষ নিতে হলেও কে আমাদের কী ট্যাগ দিল, কে কী বলল, সেগুলো দেখার বিষয় নয়।’
ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জানিয়ে জাবের বলেন, ‘আমরা একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র চাই। যেইখানে একজন মানুষ তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে, এইজন্য তাকে দলের কোনো ক্যাডার হওয়া লাগবে না। এইজন্য তাকে নেতার গাড়ির পিছনে দৌড়ানো লাগবে না। সে বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে তার যোগ্যতা অনুযায়ী, তার সুযোগ সুবিধাগুলো সে ভোগ করবে।’

