ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে কাঁচকালী-হলদিবাড়ি হাট পাকা সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের ৩ নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। সিডিউল বহির্ভূত ও মাটিমিশ্রিত ভঙ্গুর খোয়া অবিলম্বে অপসারণ না করলে কাজ জোরপূর্বক বন্ধ করে দিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
৩ হাজার ৩০০ মিটার দীর্ঘ সড়কটি সংস্কারে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ বরাদ্দ থাকলেও সরেজমিনে দেখা গেছে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। সড়কের দুই পাশে প্রশস্তকরণের কাজে ব্যবহৃত খোয়ার অধিকাংশই ভঙ্গুর, মাটিমিশ্রিত, বড় বড় টুকরা এবং স্পষ্টতই নিম্নমানের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মানসম্মত ইটের খোয়ার পরিবর্তে ৩ নম্বর ইট ভেঙে তৈরি খোয়া সড়কে ঢালা হচ্ছে। এতে সংস্কারকাজের স্থায়িত্ব নিয়ে চরম শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর স্পষ্ট বার্তা, সরকারি টাকার হরিলুট বরদাশত করা হবে না; শিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করলে এক ইঞ্চি কাজও করতে দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার মোবারক আলী বলেন, আমি সরকারের কাছ থেকে ১৪ টাকা দরে ইট ক্রয় করেছি। এই ইট না দিয়ে কি ফেলে দেবো নাকি? তাঁকে ৩ নম্বর ইট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমাকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরে তিনি আরও বলেন, আপনার কিছু জানার থাকলে উপজেলা কার্য-সহকারী আবু সুফিয়ানের কাছে জেনে নেন।
তবে উপজেলা কার্য-সহকারী কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। বরাদ্দ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ৩ হাজার ৩০০ মিটার রাস্তায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় পথচারী নবাব আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তায় ৩ নম্বর ইটের খোয়া দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। খোয়াগুলো দেখলেই বোঝা যায়, কয়েক বছর ইটভাটায় পড়ে ছিল। সেই খোয়াগুলো এখানে এনে কাজে লাগানো হচ্ছে। সরকারের বরাদ্দের টাকা এভাবে নষ্ট হলে দেশের উন্নয়ন হবে কীভাবে? প্রয়োজনে আমরা এলাকাবাসী মিলে কাজ আটকে দেবো।
কাঁচকালী বাজারের দোকানদার জয়নাল বলেন, যে নিম্নমানের খোয়া দিয়ে কাজ করা হচ্ছে, তাতে এক বছর যেতে না যেতেই রাস্তা উঠে আবার নষ্ট হয়ে যাবে। আশা করছি, উপজেলা প্রকৌশলী দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন পর সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় তাঁরা আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু সংস্কারকাজে এমন অনিয়ম দেখে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। অবিলম্বে কাজ সংশোধন করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহাজান আলী বলেন, ৩ নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহার করার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমি সাইডে গিয়ে কাজ দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রকৌশলী মাসুদুল আলম বলেন, ৩ নম্বর ইটের খোয়া দিয়ে কাজ করলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে সংস্কারকাজের গুণগত মান যাচাই করুক এবং অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। অন্যথায় জনগণকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

