রাঙামাটিতে দলের প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি এবং সম্পত্তি দখলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেন এক ভুক্তভোগী জমির মালিক। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২ টায় শহরের বনরূপাস্থ আয়োজন রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী হাজি শামসুল ইসলাম।
অভিযোগকারী শামসুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে আমার পৈত্রিক সম্পত্তি আমার বৈধ দখলে থাকলেও সম্প্রতি কিছু বিএনপির অংগ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী প্রকাশ্যে আমার জমিতে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছে। আমার পরিবারের সদস্যরা তাদেরকে বাঁধা দিতে গেলে তারা আমাদের উপর হামলা চালানোর চেষ্টাসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, অভিযুক্ত হিসেবে জমির উদ্দিন, এমদাদ হোসেন মানিক, মোঃ রুবেল, মোঃ নিজাম উদ্দিন, মোঃ ফজলু রহমান, রাজু আহম্মদ খোকন, মোঃ সোহাগ, কামাল উদ্দিন ও জয়নাল উদ্দিনসহ কয়েকজন প্রকাশ্যে বাঁশ, কাঠ ও টিন এনে তাদের জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ উভয় পক্ষকে সতর্ক করলেও অভিযুক্তরা তা উপেক্ষা করে পুনরায় দখল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
হাজি শামসুল ইসলাম বলেন, রাঙামাটির রিজার্ভ বাজারের পুরান পাড়া এলাকায় পৈত্রিক জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছে। জমির উদ্দিন (৫৫)সহ বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মীসহ আমার জমি দখলে নেওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালায়। আমি বিষয়টি জেলা বিএনপি ও কোতোয়ালি থানায় অবগত করি। পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং বিএনপি নেতারা কাজ স্থগিত রাখতে বলার পরও তারা কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
মুঠোফোনে অভিযুক্ত জেলা ছাত্র দলের সহসভাপতি এমদাদা হোসেন মানিক ও জেলা যুব দলের সদস্য নেজাম উদ্দিন বলেন,পুরানবস্তী শাপলা যুব কল্যাণ সংঘ ক্লাবের সভাপতি এবং নেজাম সেক্রেটারি হই। জমির উদ্দিন ক্লাবে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা আপোষ মিমাংসার লক্ষ্যে ঘটনাস্থলে যাই। অভিযোগকারী যদি আমাদেরকে দোষী বলে তাহলে আমাদের কিছুই করার নেই। তবে আমরা কেন জমি দখল করতে যাবো। আপনারা এলাকায় আসলেই শুনতে পারবেন কে জমি দখলকারী। হাজি শামসুল ইসলাম নিজেই একজন ভূমি সদ্যু।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদকর্মীদেরও সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে । বিষয়টিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) মোখলেছুর রহমান মুঠোফোনে বলেন,বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে একটি সমঝোতা করে দেওয়ার চেষ্টা করবো।

