মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইরানকে ঘিরে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়ে শক্ত অবস্থান প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তিনি বাড়তি চাপে পড়েছেন বলে ইঙ্গিত মিলছে সাম্প্রতিক এক জরিপে।
ডানপন্থি রাজনৈতিক সম্মেলন কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্স (সি-প্যাক)-এর সর্বশেষ স্ট্র পোল অনুযায়ী, রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রায় ১ হাজার ৬০০ প্রতিনিধির মধ্যে ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষে অবস্থান করেন তিনি।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়—২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে কাকে দেখতে চান। যদিও এই স্ট্র পোল চূড়ান্ত নির্বাচনের প্রতিফলন নয়, তবুও দলীয় অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তা ও প্রবণতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে এটি বিবেচিত হয়।
এই জরিপে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, যিনি পেয়েছেন ৩৫ শতাংশ ভোট। গত বছরের তুলনায় এটি তার জন্য উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, রুবিওর এই উত্থান রিপাবলিকান রাজনীতিতে বিকল্প নেতৃত্বের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করছে।
গত বছরের সি-প্যাক জরিপে ভ্যান্স পেয়েছিলেন ৬১ শতাংশ সমর্থন। তখন অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে স্টিভ ব্যানন, রন ডিস্যান্টিস ও এলিস স্টেফানিক তুলনামূলক কম ভোট পেয়েছিলেন। এতে বোঝা যায়, সময়ের সঙ্গে রিপাবলিকান রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের উত্থান ঘটলেও ভ্যান্স এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প বর্তমানে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। একদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থান প্রদর্শন, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দলীয় সমর্থন ধরে রাখা—এই দুই ক্ষেত্রেই তাকে ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে তার কঠোর নীতি ভোটারদের একাংশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।
এ বছরের সি-প্যাক সম্মেলনে টেড ক্রুজসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা অংশ নেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিও সম্মেলনটিকে গুরুত্ববহ করে তোলে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই জরিপ রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের একটি ইঙ্গিত দিলেও চূড়ান্ত চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের উত্থান আগামী নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে এটি ট্রাম্পের জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

