ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় সীমান্তে শূন্যরেখায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকার পর নারী, শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ২১ জনকে নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। একই সময়ে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে আবারও কয়েকজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৮ জুন) গভীর রাতে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় সীমান্তে দীর্ঘ সময় মানবেতর অবস্থায় থাকার পর আটকে পড়া ব্যক্তিদের সরিয়ে নেয় বিএসএফ।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুসহ ১১ জন প্রায় ৪৮ ঘণ্টা শূন্যরেখায় অবস্থান করেন। গত শুক্রবার রাতে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবির বাধার মুখে তারা নোম্যান্সল্যান্ডে অবস্থান নিতে বাধ্য হন। পরে রোববার গভীর রাতে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
দিনাজপুর ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটকে পড়াদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, চারজন নারী ও চারজন শিশু ছিলেন।
অন্যদিকে পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করা ১০ জনকে প্রায় ৭০ ঘণ্টা পর নিজেদের দেশে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ। গত শুক্রবার ভোরে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বিজিবি তা প্রতিহত করে। এরপর তারা সীমান্তবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান করতে থাকে।
টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও খোলা আকাশের নিচে অবস্থানের পর রোববার মধ্যরাতে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বিএসএফ সদস্যরা ফিরে যাওয়ার আগে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং বর্তমানে ওই সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বকবান্দা ও ঝাউবাড়ী সীমান্ত দিয়ে আবারও কয়েকজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক অবস্থান নিয়ে ওই প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন।
স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক দিন ধরে ওই সীমান্ত এলাকায় একাধিকবার অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে। তবে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও স্থানীয়দের সতর্কতার কারণে এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
বিজিবির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশ-ইন প্রতিরোধে টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সতর্ক রাখা হয়েছে, যাতে অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করানো না যায়।

