নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি পালিত হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টা ২০ মিনিটে প্রশাসন ভবন চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান।
দিবসটি উপলক্ষে উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রশাসন ভবন চত্বর থেকে একটি আনন্দ র্যালি বের হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসিসি মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আয়োজিত আলোচনা সভায় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন, জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস শাহীদ মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক।
এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গ্রেফতার হওয়া শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মকর্তা সংগঠনের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে যারা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। যারা আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের প্রতি সমবেদনা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আবেগের পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা ও ঐক্য অপরিহার্য।”
তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। একইসঙ্গে তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে প্রীতি ভলিবল প্রতিযোগিতা এবং নারীদের জন্য পিলো পাসিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

