নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী। একইসঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর ইতিহাস তুলে ধরতে নোবিপ্রবিতে শিগগিরই একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, অভ্যুত্থানের চেতনা ও ইতিহাসের বিরোধিতাকারী যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সদস্য নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে রাষ্ট্রীয় আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় ঐক্যের বিকল্প নেই। “ঐক্যহীনতার সুযোগেই তৃতীয় শক্তির উত্থান ঘটে, তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে,”—যোগ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান ছিল ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার একটি ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম। তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
আলোচনা সভায় গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ এবং সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার। এছাড়া বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে ভিডিও প্রদর্শনী, পুরস্কার বিতরণ, সম্মাননা প্রদান, দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। পাশাপাশি চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন উপাচার্য।
এদিন বিকেলে দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

