ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগীদের অর্থ ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বাহিরদিয়া গ্রামের বাদশা মোল্লার ছেলে এনামুল মোল্লা (২৫) ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় ২০ থেকে ২৫ জনের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। তবে চুক্তি অনুযায়ী কাউকেই ইতালিতে পাঠাতে পারেননি বলে দাবি করেন তারা।
বক্তাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত চক্রটি ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে অর্থ আদায়ের পর তাদের লিবিয়ায় পাঠায়। সেখানে একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের কাছে জিম্মি করে মুক্তিপণের নামে আরও অর্থ আদায় করা হয়। এ সময় ভুক্তভোগীদের শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়। স্বজনদের দাবি, এখনও কয়েকজনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় ইউপি সদস্য মঞ্জুরুল মোল্লা এই চক্রের অন্যতম দালাল হিসেবে কাজ করেছেন। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তিনি সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। এছাড়া চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
ভুক্তভোগী হুসাইন সর্দার বলেন, ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে তাকে লিবিয়ার একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে অতিরিক্ত টাকার জন্য নির্যাতন করা হয়। পরিবারের সদস্যরা অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর পর তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী ওসমান মোল্লা জানান, ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে লিবিয়ায় আটকে রেখে আরও ২৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে হত্যা করে সাগরে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের পর তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, ভুক্তভোগীদের অর্থ ফেরত এবং মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে অভিযুক্ত মঞ্জুরুল মোল্লা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। গ্রাম্য বিরোধের জেরে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে তাদের কেবল লিবিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে কথা হয়েছিল এবং তারা বর্তমানে সেখানে চাকরি করছেন। তবে ছোট ভাই এনামুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে তিনি তার ব্যক্তিগত বিষয় বলে উল্লেখ করেন।
অভিযুক্ত এনামুল মোল্লা বর্তমানে লিবিয়ায় অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল ফাহাদ বলেন, মানবপাচারের অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা চালানো হবে।

