ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শহীদ সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের এক বছর পেরিয়ে গেলেও খুনিদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং নিহতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান না হওয়ায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে নিহতের বাবা, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ‘সাজিদ আবদুল্লাহর হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’, ‘সাজিদ আবদুল্লাহর রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘খুনির ফাঁসি চাই’, ‘পরিবারকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে’, ‘বিচার পেতে আর কত দিন’ এবং ‘বিচারের নামে টালবাহানা চলবে না’—এমন নানা দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়।
এ সময় নিহত সাজিদ আবদুল্লাহর বাবা গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল থাকলেও ঘটনাস্থলের ক্যামেরাটি কেন অকেজো ছিল। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং মানববন্ধনে উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, এক বছর পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা বা পুনর্বাসন না দেওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি সমালোচনার মুখে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রশাসনকে তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
ইসলামী ছাত্র শিবিরের ইবি শাখার সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, দীর্ঘ এক বছরেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, প্রশাসন নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন নির্মিত হলের নাম শহীদ সাজিদ আবদুল্লাহর নামে নামকরণ, পুরো ক্যাম্পাসকে সিসিটিভির আওতায় আনা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

