চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় ১০ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী আবিদা সুলতানা আয়নী হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মো. সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিকেল থেকে পাহাড়তলীর আব্দুল হাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী আয়নী নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে ২৮ মার্চ আয়নীর মা মোছাম্মৎ বিবি ফাতেমা আদালতে অপহরণের মামলা দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে পাহাড়তলী থানা সেটিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে।
পরদিন ২৯ মার্চ ভোরে পাহাড়তলীর সাগরিকা বাই লেনের আলমতারা পুকুরপাড় এলাকার একটি ডোবা থেকে আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানতে পারে, প্রতিবেশী সবজি বিক্রেতা মো. রুবেল বিড়ালের বাচ্চা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে একটি ফাঁকা বাসায় নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তিনি শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
তদন্তে আরও উঠে আসে, হত্যার পর রুবেল মরদেহটি ওই বাসায় লুকিয়ে রাখেন। পরে গভীর রাতে লোকজন কমে গেলে ভ্যানে করে বস্তাবন্দি মরদেহ আলমতারা পুকুরপাড় এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেন। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক রুবেল পাহাড়তলীর কাজীর দীঘি এলাকায় বসবাস করতেন এবং ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করতেন। নিহত আয়নী তার পোশাকশ্রমিক মা ও দাদির সঙ্গে একই এলাকায় বসবাস করত।

