রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন—এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালোভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, দলটির মনোনয়নে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন। তবে এ বিষয়ে এখনো রাষ্ট্রপতি কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্যগত অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তার পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে সরকার ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি পদত্যাগ করতে পারেন বলেও সূত্রটির দাবি। ২৫ জুলাইয়ের আগেই পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থা আগের মতো ভালো নেই। ওপেন হার্ট সার্জারির পর তিনি নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। সম্মানজনকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ইচ্ছা তিনি প্রকাশ করেছেন বলেও ওই কর্মকর্তা দাবি করেন।
সূত্রগুলো আরও জানায়, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সময় লাগলে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
বিএনপির একটি সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের বিষয়ে দলের উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কয়েকটি নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্যদের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, বিএনপির সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারের নাম আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সিঙ্গাপুরে ওপেন হার্ট সার্জারি এবং পরে যুক্তরাজ্যে হৃদযন্ত্রে ব্লক ধরা পড়লে এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট প্রতিস্থাপন করান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তিনি রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনা নতুন মাত্রা পায় প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন এবং নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কয়েকটি নাম বিবেচনায় রয়েছে।
তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, সম্ভাব্য উত্তরসূরি কিংবা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকার, রাষ্ট্রপতি কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনো বিভিন্ন সূত্রের দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

