বঙ্গভবনের আনুষ্ঠানিক অধ্যায় শেষ করে এবার নিজের পরিচিত ঠিকানায় ফিরছেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২১ মাস আগেই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের পর রাজধানীর গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কের ৪১ নম্বর ব্যক্তিগত বাসভবনে শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি। নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ, যাতে শিগগিরই তিনি সেখানে সপরিবারে বসবাস শুরু করতে পারেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির নিচতলার বৈঠকখানায় চলছে সংস্কারকাজ। পুরোনো রং তুলে নতুন করে দেয়ালে রঙের প্রলেপ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ধুলোবালি থেকে রক্ষা করতে সোফা, টেবিলসহ আসবাবপত্র পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো বাসভবন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তুলতে কর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বাড়ির ব্যবস্থাপক কবির হোসেন জানান, মো. সাহাবুদ্দিন কবে বাসভবনে উঠবেন সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি। তবে দ্রুত সবকিছু গুছিয়ে প্রস্তুত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁর ধারণা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সাবেক রাষ্ট্রপতি বাসভবনে ফিরতে পারেন।
তিনি আরও জানান, নিচতলার বৈঠকখানাটি মূলত আগত অতিথিদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। সাহাবুদ্দিন ফিরে আসার পর শুভাকাঙ্ক্ষী ও দর্শনার্থীদের আগমন বাড়তে পারে, তাই বৈঠকখানার রং করা, আসবাবপত্র পরিষ্কার এবং বসার উপযোগী করার কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাঁচতলা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটেই দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে বসবাস করতেন মো. সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবন ছাড়ার সিদ্ধান্তের পর তাঁর পরিবারের প্রয়োজনীয় মালামাল ধাপে ধাপে গুলশানের বাসভবনে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
এদিকে শনিবার সকালে বাড়ির সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি থাকলেও অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন দেখা যায়নি। ভবনের অন্যান্য কার্যক্রমও ছিল স্বাভাবিক।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী তাঁর দায়িত্ব ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২১ মাস আগেই তিনি পদত্যাগ করেন। এখন দীর্ঘদিনের পরিচিত গুলশানের বাসভবনই অপেক্ষা করছে তার পুরোনো বাসিন্দাকে স্বাগত জানানোর জন্য।

