যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা সামরিক সংঘাত আপাতত স্থগিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি ফিরেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৬ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৪ ডলারে লেনদেন হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আপাতত বন্ধ হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে দুই দেশের পূর্ববর্তী ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়লেও নতুন করে বড় ধরনের হামলা না হওয়ায় বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের দামে।
তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও সীমিত রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের শিপিং তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে এ প্রণালী দিয়ে ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। অথচ সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত।
এদিকে লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালী নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
জার্মানির বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষকেরা সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, হুথিদের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের জ্বালানি রফতানি পথকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তাদের মতে, বড় ধরনের সংঘাত আপাতত বন্ধ থাকলেও বিচ্ছিন্ন উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক।
অন্যদিকে যুদ্ধের উত্তেজনা কমে আসায় বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সোমবার জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ০ দশমিক ৫ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি ও হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ১ শতাংশ করে বেড়েছে। ইউরোপের স্টক্স ৬০০ সূচকও প্রায় ০ দশমিক ৫ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডাও জোন্স, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং ন্যাসডাক ফিউচার্সেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির ফলে আপাতত তেলের দাম কমলেও হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

