ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের কুমারকান্দা গ্রামে একটি হত্যা মামলার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে অনেক পুরুষ সদস্য এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সুযোগে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের জমির পাট কাটতে বাধা, ইতালিপ্রবাসীর স্ত্রীকে মারধর, স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী।
সোমবার (২৮ জুলাই) কুমারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা তানিয়া বেগম সালথা থানায় পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সংঘটিত একটি হত্যা মামলার পর গ্রেপ্তার এড়াতে গ্রামের অনেক পুরুষ সদস্য আত্মগোপনে রয়েছেন। তানিয়া বেগমের স্বামী ইতালিপ্রবাসী হওয়ায় তিনি সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছেন। পরিবারের কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় নিজেদের জমির পাট কাটার জন্য বাইরের শ্রমিক নিয়োগ দেন। তবে অভিযুক্তরা শ্রমিকদের কাজে বাধা দেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই সকাল ৯টার দিকে শ্রমিকরা জমিতে পাট কাটতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের গালিগালাজ করেন এবং মারধরের চেষ্টা চালান। পরে সকাল ১০টার দিকে তারা তানিয়া বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি আহত হন।
তানিয়া বেগমের অভিযোগ, হামলার সময় তাঁর গলায় থাকা প্রায় ১০ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক খুলে নেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, পুরো ঘটনার ভিডিওচিত্রও সংরক্ষিত রয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজে আসতে পারে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে যাওয়ার সময় রাতে এসে হত্যা করার হুমকি দেয়। এরপর থেকে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। অভিযুক্তদের ভয়ে নিজেদের জমির পাটও কাটতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
লিখিত অভিযোগে ওয়ারেছ ফকির, ইয়ার আলী ফকির, ইব্রাহিম সরদার, রুপনা বেগম ও মিজানুর ফকিরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের পর থেকে একটি চক্র এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, সরকারি স্কুলের জমি দখল করে ঘর নির্মাণ, বাজারের বিভিন্ন দোকানে ডাবল তালা লাগিয়ে ব্যবসা পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি এবং নিরীহ মানুষকে মামলার আসামি করার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের মতো ঘটনাও ঘটছে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

