দেশে তীব্র গ্যাস-সংকটের কারণে চিনি ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিশোধনাগারগুলোর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় চিনির সরবরাহ সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। ফলে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার মৌলভীবাজার ও চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জসহ দেশের প্রধান পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোতে।
বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল হাসেম এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস না থাকায় অনেক মিল পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। যে কারণে মিলগেটে মাসের পর মাস ট্রাক দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত সরবরাহ মিলছে না। যোগান কমে যাওয়ায় পাইকারি ও খুচরা—উভয় বাজারেই খোলা চিনির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে ঢাকার খুচরা বাজারে খোলা চিনি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকা এবং চট্টগ্রামে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনির পাশাপাশি দুই কেজির আটার প্যাকেটেও দাম বেড়েছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ টাকা।
বর্তমানে দেশে মেঘনা, সিটি ও আবদুল মোনেম—এই তিনটি বড় শিল্প গ্রুপ মূল চিনি পরিশোধনের কাজ করে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানে গ্যাস-সংকট দীর্ঘায়িত হলে চিনির বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে, বাজারে সয়াবিন ও সয়াবিনবীজের সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হলেও ভোজ্যতেলের দাম এখনও অনেকটাই অপরিবর্তিত রয়েছে, তবে পাম তেলের দাম কেজিতে প্রায় ১ টাকা বেড়েছে।

