পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার ট্রলারে প্রায় ১০০ মণ ইলিশ ধরা পড়েছে। দীর্ঘদিন ইলিশের সংকটের পর একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাছ পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত স্থানীয় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। পরে ইলিশগুলো কুয়াকাটার আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে নিলামের মাধ্যমে প্রায় ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
জানা গেছে, এফবি আব্দুল্লাহ নামের ট্রলারটি মাঝি বাদশা মিয়ার নেতৃত্বে ১৫ জন জেলেকে নিয়ে এক দিন আগে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যায়। এ সময় ট্রলারে প্রায় দেড় লাখ টাকার বাজার-সদাই নেওয়া হয়। এক দিন মাছ ধরার পর পশ্চিমের বয়া সংলগ্ন এলাকায় জেলেদের জালে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে ইলিশ নিয়ে ট্রলারটি আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে ফিরে আসে। পরে সিফাত ফিসে দিনব্যাপী নিলামের মাধ্যমে মাছগুলো প্রায় ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।
ট্রলারের মাঝি বাদশা মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাগরে তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছিল না। হঠাৎ পশ্চিমের বয়া এলাকায় জাল ফেললে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ মণ ইলিশ ধরা পড়ে। তবে মাছগুলো তুলনামূলক ছোট। এক দিন মাছ ধরার পর ইলিশ নিয়ে আলীপুরে ফিরে এসেছি।
সিফাত ফিসের মৎস্য ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, “হঠাৎ করে আমাদের ঘাটে একটি ট্রলার ৯০ থেকে ১০০ মণ ইলিশ নিয়ে আসে। দিনব্যাপী নিলামের মাধ্যমে মাছগুলো বিক্রি করেছি। প্রায় ৩০ লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি হয়েছে। এভাবে নিয়মিত ইলিশ পাওয়া গেলে মৎস্য ব্যবসায়ীদের আগের ঋণ কিছুটা হলেও পরিশোধ করা সম্ভব হবে।”
কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাগরে বেশ কিছুদিন ইলিশের সংকট ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টি হলে ইলিশ আহরণ আরও বাড়তে পারে। এতে জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবেন।
আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ায় স্থানীয় জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। ইলিশের এমন প্রাচুর্য অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে মৎস্য ব্যবসায়ে আরও গতি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

