ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ ও সংশোধনের ক্ষেত্রে উৎপাদন ও আমদানি খরচ, শুল্ক-কর, সরবরাহ চেইনের ব্যয়, দেশি-বিদেশি বাজারদর, বিকল্প ওষুধের সহজলভ্যতা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করবে সরকার। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত মূল্য পর্যালোচনার সময় ওষুধের প্রয়োজনীয়তা, রোগের প্রাদুর্ভাব, যৌক্তিক মুনাফা, সরকারি স্বাস্থ্য ব্যয়ের ওপর প্রভাব এবং বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলীর এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ওষুধ ও প্রসাধন আইন, ২০২৩-এর ১২ ধারা অনুযায়ী গঠিত ১৫ সদস্যের ‘ওষুধ মূল্য নির্ধারণ কমিটি’ পুনর্গঠন করা হয়েছে। এতে চারজন পর্যবেক্ষক রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার তালিকায় থাকা ১১৭টি ওষুধের বিভিন্ন মাত্রার দাম সরকার বেঞ্চমার্ক হিসেবে নির্ধারণ করে দেয়। ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত মূল্যের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। আবেদনের পর যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করে এবং প্রাইজ সার্টিফিকেট ইস্যু করে।
সংসদে দেওয়া তথ্যে মন্ত্রী আরও জানান, প্রাথমিক তালিকার বাইরে থাকা অন্যান্য ওষুধের ক্ষেত্রে নির্দেশক মূল্যের ভিত্তিতে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দাম নির্ধারণ করতে পারে। তবে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট-সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য এসব ওষুধের ক্ষেত্রেও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে আবেদন করে মূল্য সনদ সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক।
ওষুধের বাজারে মূল্যশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করা ওষুধ ও প্রসাধন আইন, ২০২৩-এর ৩০(৪) ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট অপরাধীকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অনধিক দুই লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

