নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশের নম্বর কমিয়ে মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভাইভার নম্বর বাড়ানো হলে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, ঘুষ-বাণিজ্য ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ভাইভার নামে বাণিজ্য বন্ধ এবং প্রস্তাবিত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে শিক্ষার্থী রফিক আল হাসান বলেন, ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মেধাবীরা বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হবে। ভাইভা বোর্ডের সদস্যদের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা থাকায় লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া প্রার্থীরাও বৈষম্যের শিকার হতে পারেন। সরকারের উচিত এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা।
শিক্ষার্থী আসিফুর রহমান বলেন, চাকরিপ্রত্যাশীরা দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। সেখানে লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হলে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তিনি শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
শাখা ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী মো. সবুজ বলেন, শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের ‘তালবাহানা’ মেনে নেওয়া হবে না। বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।
ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, তাঁরা সরকারের বিরোধিতা করছেন না, বরং শিক্ষার্থীবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। ভাইভা পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুবাশশির আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না। তিনি প্রস্তাবিত সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জাহিদুর রহমানকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
শাখা ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব ইফতেহার উদ্দিন অভিযোগ করেন, স্বজনপ্রীতির সুযোগ তৈরি করতেই সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের ছাত্র অধিকার সম্পাদক নাহিদ হাসান দাবি করেন, ভাইভার নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে দলীয় ক্যাডারদের চাকরি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে ক্যাম্পাসে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

