ইতালির ভেনিসে হামলা ও লাঞ্ছনার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভেনিসের পিয়াচ্ছা লে রোমা পুলিশ স্টেশনে গিয়ে তিনি মামলা করেন। এ সময় প্রায় তিন ঘণ্টা থানায় অবস্থান করেন অভিনেত্রী।
জানা গেছে, ঘটনার ভিডিওচিত্রে যাদের দেখা গেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলা দায়েরের সময় ইতালিতে বাংলাদেশের মিলান কনস্যুলেটের একটি প্রতিনিধিদল বাঁধনের সঙ্গে ছিল। ঘটনার ভিডিওচিত্রও পুলিশের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বাঁধন জানান, মামলা দায়ের না করে তিনি ভেনিস ছাড়বেন না। একই সঙ্গে সোমবারের ঘটনার পর ইতালির পুলিশ তাঁকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিয়েছে বলেও জানান তিনি। বর্তমানে ভেনিসেই অবস্থান করছেন এই অভিনেত্রী।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার (প্রেস) সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজা এক ফেসবুক পোস্টে জানান, বাঁধনের সঙ্গে তাঁর ফোনে বিস্তারিত কথা হয়েছে। তাঁর দাবি, বাঁধন তিনজন আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাসের দুই কর্মকর্তা ভেনিসে গিয়ে বাঁধনের সঙ্গে থানায় উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের সহযোগিতায় মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
গোলাম মোর্তোজা আরও জানান, অভিযুক্তদের ভিডিওচিত্র পুলিশকে দেওয়া হয়েছে এবং ইতালির মূলধারার গণমাধ্যমেও বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষও ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বলে জানান তিনি। উৎসবের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়টি আয়োজকদের পক্ষ থেকেও পুলিশকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে উৎসব কর্তৃপক্ষ বাঁধনকে তাঁর ইচ্ছামতো আরও কয়েক দিন ভেনিসে থাকার সুযোগ দিয়েছে এবং এ সময়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
মামলা চলমান থাকলেও উৎসব শেষে বাঁধনের ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সাক্ষ্য দেওয়ার প্রয়োজন হলে আবার ভেনিসে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে তাঁর। পুলিশ সাক্ষ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁধন ‘অবশ্যই আসব’ বলে জানিয়েছেন বলে জানান গোলাম মোর্তোজা।
এর আগে সোমবার রাতে ইতালির ভেনিসে বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে লাঞ্ছিত ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

