সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকায় এক কিশোরীর কোমরে শেকল বেঁধে রাস্তায় টেনে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক শেকল ধরে কিশোরীকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় কিশোরীকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। তবে ভিডিওতে ওই যুবকের চেহারা স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি।
গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপশহরের ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার সড়কে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এলাকার একটি দোকানের ক্যাশবাক্স চুরির চেষ্টা করে ওই কিশোরী। পরে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা তাকে আটক করেন।
অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর কিশোরীকে মারধর করে কোমরে শেকল বাঁধা হয় এবং সড়কে হাঁটানো ও টেনে নেওয়া হয়। তবে কারা তাকে মারধর করেছেন কিংবা কারা শেকল বেঁধে রাস্তায় নিয়ে গেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সিলেট শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন মঙ্গলবার রাতে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই কিশোরীকে থানায় নিয়ে আসে। তার বয়স আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ বছর। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, সে একটি দোকানের ক্যাশবাক্স চুরি করেছে।
ওসি জানান, এ ঘটনায় কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। কিশোরীকে থানায় নিয়ে আসার পরও স্থানীয়রা পুলিশকে কোনো সহযোগিতা করেননি। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
কিশোরীর কোমরে শেকল বেঁধে সড়কে ঘোরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে কেউ এমন কাজ করে থাকলে তা অন্যায় হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা অনুযায়ী কোনো সাধারণ নাগরিক আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে আটক করতে পারেন। তবে তাকে অনতিবিলম্বে পুলিশ বা নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিকে কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়ার অধিকার সাধারণ নাগরিকের নেই। কোমরে শেকল বেঁধে জনসমক্ষে হাঁটানো কিংবা তার ওপর শারীরিক বা মানসিক চাপ প্রয়োগ আইনপরিপন্থী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

