পাবনায় সংক্রামক রোগ হাম (মিজলস) আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ২৫০ শয্যার পাবনা জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে মোট ২৫ জন শিশু হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা জানান, ভর্তি রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু হলেও কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীও রয়েছেন। একই সময়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও হামে আক্রান্ত রোগী আসছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তীব্র ভিড়। একটি শয্যায় দুই থেকে তিনজন করে রোগী রাখা হচ্ছে, এমনকি অনেক শিশুকে মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ওয়ার্ডের বারান্দায় অস্থায়ীভাবে কাঁচঘেরা কক্ষে হাম আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত নার্স ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবও রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সীমিত সম্পদ নিয়েই সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়ায়। শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও এতে আক্রান্ত হতে পারে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত তিন মাসে পাবনায় ৩৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং এ সময়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এক সপ্তাহেই নতুন করে কয়েকটি সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, পাবনায় হামের নমুনা পরীক্ষার কোনো সুবিধা নেই। ফলে রোগ নির্ণয়ের জন্য ঢাকার ল্যাবে নমুনা পাঠাতে হয়, যার ফল পেতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগে। এ সময়ে রোগীদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা গ্রহণের পরও সংক্রমণ বাড়ার বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তারা দ্রুত সচেতনতা বৃদ্ধি, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

