রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৭ জুন (রোববার) দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য এ তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এর আগে গত ১ জুন আদালত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরদিন চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। পরে আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা গত ১৯ মে সকালে নিখোঁজ হয়। তাকে স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতির সময় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে আসামিদের কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তারা শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির মধ্যে তার বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। একই দিন আদালত চার্জশিট আমলে নেন।
উল্লেখ্য, গত ২০ মে প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে এবং সহ-আসামি স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

