চলমান বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি)। এ সিদ্ধান্তে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো হলো— লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চৌক, প্যাটেল চৌক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম।
গত সোমবার ও মঙ্গলবার সংসদ ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার পর কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি (এএপি) ও সমাজবাদী পার্টিসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের বিক্ষোভে রাজধানীর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একই সময়ে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির বিরোধিতায় পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশের কৃষকদের আন্দোলন এবং কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে দিল্লির সীমান্তবর্তী এলাকাতেও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বহিরাগত বিক্ষোভকারীদের রাজধানীতে প্রবেশ ও আন্দোলনে অংশগ্রহণ সীমিত করতে মেট্রো স্টেশনগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, প্রশাসনিক এলাকা ও অন্যান্য সংবেদনশীল স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএমআরসি জানিয়েছে, বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোতে আপাতত যাত্রীদের প্রবেশ ও প্রস্থান সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে সংশ্লিষ্ট রুটে ট্রেন চলাচল অব্যাহত থাকবে এবং ট্রেনগুলো এসব স্টেশনে না থেমেই গন্তব্যে চলাচল করবে।
এদিকে যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং যাত্রার আগে সর্বশেষ সেবাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যায়ক্রমে স্টেশনগুলো পুনরায় চালু করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

