ঠাকুরগাঁও-১ আসনের শূন্য পদে অনুষ্ঠাতব্য উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নির্বাচনি হাওয়া। উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ মোট ছয়জন প্রার্থী নিজ নিজ দলের পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) তপশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের কাছে পাঁচজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র হস্তান্তর করেন। এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি: দলটির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন (বিকল্প প্রার্থী হিসেবে দলটির জেলা সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল্লাহ মাসুদও মনোনয়নপত্র জমা দেন), ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রাথী খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী আবদুল আলিম নিজামী, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশন থেকে যে ৫টি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মোট ৬টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল, প্রার্থীরা সবাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা জমা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দল, ভোটার, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়াই নির্বাচন কমিশনের মূল লক্ষ্য। এজন্য আচরণবিধি কঠোরভাবে তদারকি করা হচ্ছে।”
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় পেরিয়ে আগামী ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতীক বরাদ্দের পরই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা এবং আগামী ২৯ অক্টোবর সকাল থেকে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে আসনটিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরবর্তীতে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ফলশ্রুতিতে জাতীয় সংসদ সচিবালয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করলে নির্বাচন কমিশন এই উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

