বিশ্ব মান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সাফল্য ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার বিকাশে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘অমিত্রাক্ষর’ সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব মান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব বিষয় তুলে ধরেন ড. সাখাওয়াত হোসেন। জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), যশোর যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এ বছরের বিশ্ব মান দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব: সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি’ (Shared Vision for a Better World: Affordable and Clean Energy)।
মূল প্রবন্ধে ড. সাখাওয়াত হোসেন বিশ্বব্যাপী মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার গুরুত্ব, বিশ্ব মান দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়নে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান সংস্থা (আইএসও), আন্তর্জাতিক ইলেকট্রোটেকনিক্যাল কমিশন (আইইসি), আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) এবং বিএসটিআইয়ের কার্যক্রমের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
যবিপ্রবির সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসের ছাদে স্থাপন করা হয়েছে এক মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন অন-গ্রিড রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা। তাঁর উপস্থাপনা অনুযায়ী, দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এ ধরনের বৃহৎ পরিসরের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে যবিপ্রবি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
অন-গ্রিড ইনভার্টার ও নেট মিটারিং প্রযুক্তিনির্ভর এ প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট চাহিদার প্রায় ৩৩ থেকে ৩৫ শতাংশ পূরণ করছে। ছুটির দিনসহ যেসব সময়ে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হয়, তখন উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বছরে প্রায় ৮০০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে কৃষি সেচে ডিজেলচালিত পাম্পের পরিবর্তে সৌরচালিত পাম্পের ব্যবহার, সমন্বিত বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট এবং বাগেরহাট ও জামালপুরের সোলার পার্কের মতো বৃহৎ প্রকল্পের সম্ভাবনাও তুলে ধরেন তিনি। এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ এবং গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাঙ্গন ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএসটিআই, যশোরের উপপরিচালক (সিএম) ও অফিসপ্রধান প্রকৌশলী মোং আসলাম শেখ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশেক হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ আশেক হাসান যবিপ্রবির এক মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ ও উন্নত মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যশোর জেলাকে একটি আদর্শ উদাহরণ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দ্য যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান খান। আলোচনা সভা শেষে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

