দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠা আইভরিকোস্টের তরুণ উইঙ্গার ইয়ান দিয়োমান্দে এখন ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিভাদের একজন। আবিদজানে জন্ম নেওয়া ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার শৈশবেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে একাই দেশ ছাড়েন। সেই কঠিন সময়ে তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
রোনালদোর প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকলেও প্রিয় তারকার নাম ও ৭ নম্বর জার্সি কেনার সামর্থ্য ছিল না দিয়োমান্দের। তাই একটি সাধারণ জার্সির পেছনে নিজের হাতে ‘রোনালদো’ নাম ও ৭ নম্বর লিখে অনুশীলন করতেন তিনি। সেই স্বপ্নবাজ কিশোরই এখন রোনালদোর সাবেক ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার খুব কাছাকাছি অবস্থানে।
বিখ্যাত ফুটবল সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলে দিয়োমান্দেকে দলে ভেড়াতে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস জানিয়েছে, এই তরুণ উইঙ্গারই হতে পারেন ক্লাবটির এবারের সবচেয়ে বড় সাইনিং।
মাত্র দুই মৌসুমে লেগানেস ও পরে আরবি লাইপজিগের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর নজর কাড়েন দিয়োমান্দে। গত মৌসুমে বুন্দেসলিগার অন্যতম সেরা পারফরমার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিয়োমান্দেকে দলে নেওয়ার পরিকল্পনা রিয়াল মাদ্রিদের দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি দুই ক্লাবের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর আলোচনা আরও গতি পায়। এর আগেই খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত সম্মতি নিশ্চিত করেছে স্প্যানিশ ক্লাবটি।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে এই দলবদলে ট্রান্সফার ফি ১১৫ থেকে ১২০ মিলিয়ন ইউরোর মধ্যে হতে পারে। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি, তবে খুব শিগগিরই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে দিয়োমান্দের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে পিএসজির নাম আলোচনায় থাকলেও নীরবে কাজ এগিয়ে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবটি অন্যদের আগ্রহের অপেক্ষা না করে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির দিকে অগ্রসর হয়েছে। এছাড়া খেলোয়াড়ের বেতন রিয়ালের নির্ধারিত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় আলোচনায় বড় কোনো বাধা তৈরি হয়নি।
দিয়োমান্দের সম্ভাব্য আগমন রিয়াল মাদ্রিদের ভবিষ্যৎ স্কোয়াড পরিকল্পনায়ও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে মাইকেল অলিসেকে নিয়ে চলা গুঞ্জনের ইতি ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

