Author: জাকির হোসেন, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
ফরিদপুরের সালথায় বিলে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মৌসুমি মন্ডল (২৫) নামের দুই সন্তানের এক জননীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের আগুলদিয়া পূর্বপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মৌসুমি মন্ডল স্থানীয় পাপন সরকারের স্ত্রী ও সদরপুর উপজেলার উজিরখা কান্দি গ্রামের বিভূতি মন্ডলের মেয়ে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে বাড়ির কাজ শেষ করে পাশের বিলে গোসল করতে যান মৌসুমি। দীর্ঘ সময় পরও তিনি ঘরে না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাঁর খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বিলের ধারে তাঁর জুতা এবং পানিতে বালতি ভাসতে দেখা যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে বিলের পানি থেকে মৌসুমির মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনেরা। পরিবার সূত্রে জানা…
ফরিদপুর সদর উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে কাজ করতে নেমে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাওন ও হৃদয় নামে রাজমিস্ত্রি-দিনমজুরসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার(১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে একজন ও দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আরেক জনের মৃত্যু হয়। এর আগে সকালের দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার বাঁখুণ্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বাসিন্দা, রাজমিস্ত্রি মো. শাওন হোসেন (২৫) ও দিনমজুর হৃদয় শেখ (২১)। তার বাড়ি ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের চর মঙ্গলকোট গ্রামে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল নয়টার দিকে সদর উপজেলার বাঁখুণ্ডা এলাকায় মো. কাওসার মিয়ার নির্মাণাধীন ভবনের নতুন সেপটিক ট্যাংকের ছাদের…
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে পথচারীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় ব্যবহৃত ২২ বোরের রিভলবারটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মো. হামিদুল গাজী (৪২) নামের ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের (ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা সংলগ্ন) ওপর একটি খয়েরি রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-১৬-৩০৮৭) থামান হামিদুল গাজী। গাড়িতে তাঁর সঙ্গে শিমু আক্তার তিশা ওরফে ফাতেমা ইসলাম এনি (২৬) নামে এক নারী আরোহী ছিলেন। গাড়ি পার্কিং নিয়ে…
ফরিদপুরের মধুখালীতে হাত-পা টিপে দেওয়ার কথা বলে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে হাফিজার শেখ (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন হাফিজার শেখ। ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট সকালে কৌশলে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে তিনি প্রথমবার ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ভুক্তভোগী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জোরপূর্বক তার গর্ভপাত করানো হয়। বিষয়টি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের জানালেও তারা কোনো সুরাহা না করায় বাধ্য হয়ে বাবার বাড়ি চলে যান ভুক্তভোগী। পরবর্তীতে ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর মধুখালী থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি। তদন্ত শেষে মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ তোফাজ্জল হোসেন আসামি হাফিজার শেখের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এই সাজা দিয়েছেন। আদালতের এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
ফরিদপুরের নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন ডা. এস এম মনজুর-এ-এলাহীকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাঁর নিয়োগ বাতিলের দাবিতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মূল ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন ছাত্র সমাজ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত টানা এক ঘণ্টা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে এই অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশ পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং সেবাগ্রহীতারা সাময়িক ভোগান্তিতে পড়েন। বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীরা ডা. মনজুর-এ-এলাহীর নিয়োগকে বিতর্কিত ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অনুপযুক্ত দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে সুবিধাভোগী ও বিতর্কিত ভূমিকার কারণে এই চিকিৎসককে কোনোভাবেই জেলার সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। অবিলম্বে এ নিয়োগ আদেশ প্রত্যাহার না করা হলে সিভিল সার্জন কার্যালয় স্থায়ীভাবে অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক ভিপি প্রার্থী খাইরুল ইসলাম রোমান বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ যখন ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে, তখন সেই ফ্যাসিবাদের দোসরদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো ছাত্র-জনতার ত্যাগের প্রতি চরম অবমাননা। বিতর্কিত কাউকে কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বে বসতে দেওয়া হবে না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি কাজী রিয়াজ তাঁর বক্তব্যে জানান, স্বাস্থ্য খাতের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। অনতিবিলম্বে এ বিতর্কিত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে কোনো যোগ্য, নিরপেক্ষ ও সৎ চিকিৎসককে সিভিল সার্জন হিসেবে পদায়ন করতে হবে; অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফরিদপুরজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। অবরোধ কর্মসূচির কারণে কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে সেখানে পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়। পরবর্তীতে ছাত্র নেতারা জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আপাতত অবরোধ স্থগিত করলেও রাজপথে আন্দোলনের চূড়ান্ত হুশিয়ারি দিয়ে ফিরে যান। ঘটনার বিষয়ে নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে রবি (৫৪) নামে এক চা-দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রবি আলফাডাঙ্গা উপজেলার বড়ভাগ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পার্শ্ববর্তী কাশিয়ানী সদর বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন। আহতরা হলেন একই গ্রামের মোক্তার বিশ্বাস (৫৫), হৃদয় শেখ (২১) ও লিটন খান (৪০)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে দোকান বন্ধ করে তিন সঙ্গীকে নিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন রবি। পথিমধ্যে মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাদের ঘিরে…
ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য বিস্তার ও বাঁশের সাঁকো দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড়খারদিয়া বলতলা ব্রিজ এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ময়েনদিয়া বাজারের আধিপত্য নিয়ে যদুনন্দী ইউনিয়নের মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ এবং পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার খারদিয়া-ময়েনদিয়া কুমার নদীতে বাঁশের সাঁকো তৈরিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের লোক জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিকেলজুড়ে…
পদ্মা ও মধুমতি নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফরিদপুরের পাঁচটি উপজেলায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। তীব্র স্রোত ও নদীর আগ্রাসী রূপে একের পর এক বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা। ভিটেমাটি হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন নদীতীরবর্তী হাজারো মানুষ। নদীভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আলফাডাঙ্গা উপজেলা। মধুমতি নদীর অব্যাহত ভাঙনে টগরবন্দ, গোপালপুর, বুড়াইচ, বানা ও পাচুড়িয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ একর ফসলি জমি ও বহু বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ভাঙনের কবলে পড়ে সবচেয়ে করুণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন চাপুলিয়া আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দারা। আশ্রয়ণ কেন্দ্রের কয়েকটি ঘর…
শহরের ব্যস্ততা, কোলাহল আর ইট-পাথরের ভিড়ের মাঝেও সবুজের স্বপ্ন দেখেন একজন শিক্ষক। হাতে চক-ডাস্টার থাকলেও অবসরে তার সঙ্গী হয় গাছের চারা, বীজ আর কোদাল। কখনো রাস্তার পাশে, কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায়, আবার কখনো পুকুরপাড়ে নিরবে গাছ লাগিয়ে চলেছেন তিনি। প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তার এই উদ্যোগ। তিনি ফরিদপুরের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ফরিদপুর শহরের জিলা স্কুলের সামনের পুকুর, চৌরঙ্গী পুকুরের পাড়সহ কয়েকটি স্থানে প্রায় ৬০০টি তালবীজ বপন করেছেন তিনি। উদ্দেশ্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা। শিক্ষকতা নুরুল ইসলামের পেশা…
‘আমার একটাই ছেলে। ছয় মাস আগে বিদেশে গেছে। বাবার মুখটাও দেখতে পারেনি। আমারে যারা বিধবা করেছে, তাঁদের ফাঁসি চাই।’ এমনভাবে স্বামী হত্যার বিচার ও আসামিদের ফাঁসির দাবিতে ফরিদপুর আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে এভাবেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ডালিয়া বেগম। তাঁর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে আদালত চত্বর। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কৃষক ইউসুফ আলী শেখ (৫৫) হত্যায় জড়িতদের ফাঁসি ও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ফরিদপুর জজ কোর্ট চত্বরে মানববন্ধন করেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ অংশ নেয়। মানববন্ধন থেকে গ্রেপ্তার আসামিদের জামিন না দেওয়া এবং দ্রুত বিচার শেষ করার দাবি জানানো হয়। নিহত ইউসুফ আলী শেখ ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চরঅমরাপুর গ্রামের কৃষক। স্বজনদের অভিযোগ, গত ১ আগস্ট সন্ধ্যায় তাঁকে ডেকে নিয়ে দুর্গম চর এলাকায় নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে বিষ খাওয়ানো হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৩ আগস্ট ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রায় এক মাস আগে মামলার আসামি শামীমের মা আসমা বেগম নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় ইউসুফসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরেই ইউসুফকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন ও বিষ খাওয়ানো হয়। মৃত্যুর আগে ইউসুফ একটি ভিডিও বক্তব্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম বলে গেছেন বলে জানান স্বজনরা। পরে নিহতের স্ত্রী ডালিয়া বেগম সাতজনের নাম উল্লেখ করে চরভদ্রাসন থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা হলেন, শামীম হোসেন (২৫), তাঁর বোন ইয়াছমিন আক্তার (৩৪), আক্কাস মোল্যা (৬০) ও তাঁর ছেলে জুলহাস মোল্যা (৩৫)। তবে মামলার বাকি তিন আসামি এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মানববন্ধনে ডালিয়া বেগম বলেন, আমার স্বামীকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ এখনো তিন আসামিকে ধরতে পারেনি। কোন শক্তির কারণে পারেনি, তা জানি না। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই। যারা আমার স্বামীকে তিলে তিলে মেরেছে, তাঁদের ফাঁসি চাই। স্থানীয় বাসিন্দা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের মূল দাবি, গ্রেপ্তার আসামিরা যেন জামিন না পায় এবং দ্রুত বিচার শেষে তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পলাতক তিন আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাকি তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি আমরা। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলামের হাতে গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের জামিন না দিয়ে বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য স্মারকলিপি দিয়েছেন নিহতের স্ত্রী ডালিয়া বেগম।
© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.odhikar.news কর্তৃক সংরক্ষিত
